এনজিও-তে মনিটরিং ম্যানেজার: প্রজেক্টের বিবেক ও পরিবর্তনের রূপকার

শুধু ডেটা সংগ্রহ নয়, একজন মনিটরিং ম্যানেজারের মূল দায়িত্ব হলো একটি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করা। জানুন কীভাবে এই চ্যালেঞ্জিং পেশায় একটি সফল ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব।

0

এনজিও-তে মনিটরিং ম্যানেজার: যখন আমরা কোনো এনজিও-এর সফলতার গল্প শুনি—ধরা যাক, প্রত্যন্ত চরের একটি শিশু স্কুলে যাচ্ছে, অথবা কোনো গ্রামের মানুষ বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাচ্ছে—তখন আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাঠকর্মী এবং সুবিধাভোগীদের হাসিমুখ। এই দৃশ্যগুলোই আমাদের অনুপ্রাণিত করে। কিন্তু পর্দার আড়ালে একজন ব্যক্তি থাকেন, যিনি নীরবে নিশ্চিত করেন যে এই হাসিটি সত্যিকারের এবং টেকসই। তিনি নিশ্চিত করেন, যে মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল, তা আসলেই পূরণ হচ্ছে কি না। তিনিই হলেন মনিটরিং ম্যানেজার

এনজিও খাতের মনিটরিং অফিসার হতে চাইলে

এই পদটি কোনো এনজিও-এর ‘কম্পাস’ বা ‘স বিবেক’ হিসেবে কাজ করে। এটি শুধু একটি চাকরি নয়, বরং একটি প্রকল্পের প্রতিশ্রুত সাফল্য এবং বাস্তবতার মধ্যে সেতুবন্ধন রচনার এক গুরুদায়িত্ব। আপনি যদি এনজিওতে ক্যারিয়ার গড়ার কথা ভাবেন, অথবা এই পেশাটি সম্পর্কে কৌতূহলী হন, তবে এই লেখাটি আপনার জন্যই। এখানে আমরা জানবো, একজন মনিটরিং ম্যানেজার আসলে কী করেন, কেন তার ভূমিকা এত গুরুত্বপূর্ণ, এবং কীভাবে আপনিও এই পথে একটি সফল ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।

মনিটরিং ম্যানেজার আসলে কে? ‘M&E’-এর সহজ পাঠ

এনজিও সেক্টরে এই পদটিকে প্রায়শই “M&E ম্যানেজার” বলা হয়। এর পূর্ণরূপ হলো মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন (Monitoring and Evaluation)। এই দুটি শব্দ প্রায়ই একসাথে ব্যবহৃত হলেও এদের অর্থ ও প্রয়োগে সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্যটি বুঝতে পারলে একজন ম্যানেজারের মূল দায়িত্বটি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

মনিটরিং (Monitoring): একে আপনি একটি গাড়ি চালানোর সময় ড্যাশবোর্ডের দিকে তাকানোর সাথে তুলনা করতে পারেন। আপনি যখন গাড়ি চালান, আপনি নিয়মিত স্পিডোমিটার দেখেন (গতি ঠিক আছে কি না), ফুয়েল গেজ দেখেন (তেল আছে কি না), এবং ম্যাপ দেখেন (আপনি কি সঠিক পথে আছেন?)। মনিটরিং ঠিক এই কাজটিই করে একটি প্রকল্পের জন্য। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া যা প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে সজাগ থাকে। এটি নিশ্চিত করে যে প্রকল্পের কাজগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী হচ্ছে, বাজেট ঠিক থাকছে এবং সময়মতো কার্যক্রমগুলো সম্পন্ন হচ্ছে।

ইভালুয়েশন (Evaluation): এটি হলো আপনার দীর্ঘ ভ্রমণের শেষে বসে পর্যালোচনা করা। “আমরা কি নিরাপদে এবং সবচেয়ে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছি?”, “এই পথে না এসে অন্য পথে এলে কি ভালো হতো?”, “এই ভ্রমণের ফলে আমাদের উদ্দেশ্য কি সফল হয়েছে?”। ইভালুয়েশন একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর (যেমন: প্রকল্পের মাঝখানে বা একেবারে শেষে) করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকল্পের প্রভাব (Impact) যাচাই করা। অর্থাৎ, যে স্কুলটি নির্মাণ করা হলো, তার ফলে কি শিশুদের শিক্ষার মান আসলেই বেড়েছে? এই গভীর প্রশ্নের উত্তর খোঁজে ইভালুয়েশন।

একজন মনিটরিং ম্যানেজার এই দুটি প্রক্রিয়াকেই নেতৃত্ব দেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে প্রকল্পটি কেবল ‘কাজ করছে’ না, বরং ‘সঠিক কাজ’ করছে এবং সেই কাজের ফলে মানুষের জীবনে সত্যিকারের ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে।

একজন মনিটরিং ম্যানেজারের বিস্তারিত দায়িত্ব: শুধু সংখ্যার ঊর্ধ্বে

অনেকের একটি ভুল ধারণা আছে যে, মনিটরিং ম্যানেজারের কাজ শুধু ডেটা সংগ্রহ করা এবং মাস শেষে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া। বাস্তবতা এর চেয়ে অনেক গভীর এবং চ্যালেঞ্জিং। তার কাজ প্রকল্পের জীবনচক্রের প্রতিটি ধাপের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

১. প্রকল্পের নকশা এবং পরিকল্পনা পর্ব

একজন দক্ষ মনিটরিং ম্যানেজারের কাজ প্রকল্প শুরু হওয়ার আগে থেকেই শুরু হয়। তিনি যখন প্রকল্পের প্রস্তাবনা বা ডিজাইন তৈরি হয়, তখন থেকেই সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি প্রজেক্ট টিমের সাথে বসে “থিওরি অফ চেঞ্জ” (Theory of Change) বা “লজিক্যাল ফ্রেমওয়ার্ক (লগফ্রেম)” তৈরিতে সাহায্য করেন। সহজ কথায়, এটি হলো একটি প্রকল্পের মূল পরিকল্পনা—”যদি আমরা শিক্ষকদের ভালো প্রশিক্ষণ দিই (Input), তাহলে তারা ক্লাসে ভালোভাবে পড়াতে পারবেন (Output), যার ফলে শিক্ষার্থীদের শেখার মান বাড়বে (Outcome) এবং অবশেষে ওই এলাকার শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাবে (Impact)।”

এই পরিকল্পনাকে পরিমাপযোগ্য করার দায়িত্বটিও তার। তিনি ঠিক করেন কোন কোন সূচক (Indicators) দিয়ে সাফল্য মাপা হবে। “শিক্ষার মান বাড়ানো” একটি অস্পষ্ট লক্ষ্য, একে মাপা কঠিন। কিন্তু “এক বছরের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বাংলা রিডিংয়ে সাবলীলতার হার ৪০% থেকে ৬০%-এ উন্নীত করা” — এটি একটি সুস্পষ্ট এবং পরিমাপযোগ্য সূচক। এই সূচকগুলো ঠিক করা এবং কীভাবে সেই তথ্য সংগ্রহ করা হবে তার একটি পূর্ণাঙ্গ “M&E প্ল্যান” তৈরি করা তার প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব।

২. প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্ব (সজাগ মনিটরিং)

প্রকল্প শুরু হয়ে গেলে, মনিটরিং ম্যানেজার সজাগ প্রহরীর ভূমিকা নেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে মাঠ পর্যায় থেকে যে তথ্য বা ডেটা আসছে তা সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য। একে “ডেটা কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স” বলা হয়। কারণ ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া সিদ্ধান্ত পুরো প্রকল্পকেই বিপদে ফেলতে পারে। তিনি প্রায়শই আধুনিক ডিজিটাল টুলস যেমন KoboToolbox বা ODK ব্যবহার করে ডেটা সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি সহজ ও নির্ভুল করেন।

তবে তার কাজ শুধু অফিসে বসে ড্যাশবোর্ড দেখা নয়। একজন ভালো মনিটরিং ম্যানেজার নিয়মিত ফিল্ড ভিজিট বা মাঠ পরিদর্শনে যান। তিনি সরাসরি সুবিধাভোগীদের সাথে কথা বলেন, তাদের অভিজ্ঞতা শোনেন। তিনি যা দেখছেন তার সাথে রিপোর্টের তথ্যের মিল আছে কি না তা যাচাই (Ground-truthing) করেন। এই পরিদর্শনের মাধ্যমেই তিনি তথ্যের পেছনের মানবিক গল্পগুলো জানতে পারেন। হয়তো ডেটা বলছে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীর উপস্থিতি কম, কিন্তু ফিল্ড ভিজিটে গিয়ে তিনি জানতে পারলেন যে ক্লিনিকের সময়টি ওই এলাকার নারীদের সাংসারিক কাজের সময়ের সাথে সাংঘর্ষিক। এই অমূল্য তথ্যটি শুধু ফিল্ড ভিজিটেই পাওয়া সম্ভব।

৩. বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন এবং শেখার পর্ব

এটিই মনিটরিং ম্যানেজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সৃজনশীল কাজ। মাস শেষে বা নির্দিষ্ট সময় পর পর সংগৃহীত সমস্ত ডেটা তিনি বিশ্লেষণ করেন। তিনি শুধু দেখেন না যে “৬০% শিক্ষার্থী পাস করেছে”, তিনি অনুসন্ধান করেন “কেন বাকি ৪০% পারলো না?”। তিনি তথ্যের মধ্যে প্যাটার্ন, প্রবণতা এবং গভীর সম্পর্ক খুঁজে বের করেন।

এই বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করেই তিনি ইভালুয়েশন বা মূল্যায়ন পরিচালনা করেন। তিনি কেস স্টাডি তৈরি করেন, যেখানে সংখ্যার পাশাপাশি ব্যক্তির জীবনের পরিবর্তনের গল্পগুলো তুলে ধরা হয়। তার তৈরি করা রিপোর্টই বলে দেয় প্রকল্পটি সঠিক পথে আছে কি না। যদি কোনো বিচ্যুতি ঘটে, তবে তিনিই সেই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেন এবং উত্তরণের পথ বাতলে দেন। তার কাজ ভুল ধরা নয়, বরং ভুল থেকে শিখে প্রকল্পকে আরও কার্যকরী করে তোলা। তিনি নিশ্চিত করেন যে এই “শেখা” বা “Lessons Learned” গুলো যেন ভবিষ্যতের প্রকল্প ডিজাইনে কাজে লাগানো হয়।

কেন এই ভূমিকাটি এনজিও-এর জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?

একটি এনজিও-এর সাফল্য, স্থায়িত্ব এবং বিশ্বাসযোগ্যতা—এই সবকিছুর পেছনে মনিটরিং ম্যানেজারের গভীর প্রভাব রয়েছে।

  • জবাবদিহিতা (Accountability): এনজিওগুলো সাধারণত দাতা সংস্থার অর্থ বা সাধারণ মানুষের দানে পরিচালিত হয়। সেই অর্থ সঠিকভাবে, প্রতিশ্রুত কাজে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে মনিটরিং ম্যানেজার দাতা সংস্থার কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেন। তার চেয়েও বড় কথা, তিনি প্রকল্পের সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীর কাছেও এনজিও-এর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেন।
  • তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Evidence-based Decision Making): আবেগ বা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে বড় প্রকল্প চালানো সম্ভব নয়। মনিটরিং ম্যানেজারের দেওয়া তথ্য এবং বিশ্লেষণই প্রজেক্ট ম্যানেজারকে সঠিক কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। কখন প্রকল্পে পরিবর্তন আনা দরকার, কোন কার্যক্রমটি বন্ধ করা উচিত আর কোনটি বাড়ানো উচিত—এই সব সিদ্ধান্ত তার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই নেওয়া হয়।
  • ফান্ডরাইজিং (Fundraising): দাতা সংস্থাগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা প্রমাণের ভিত্তিতে অর্থায়ন করতে চায়। একটি শক্তিশালী M&E সিস্টেম এবং অতীত প্রকল্পের সুস্পষ্ট ইমপ্যাক্ট রিপোর্টই হলো নতুন ফান্ড বা অনুদান পাওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। একজন মনিটরিং ম্যানেজারের সফল রিপোর্ট একটি এনজিও-এর ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারে।

মনিটরিং ম্যানেজার হতে কী কী দক্ষতা প্রয়োজন?

এই পদে সফল হতে হলে আপনাকে কারিগরি জ্ঞান এবং মানবিক দক্ষতার এক অসাধারণ ভারসাম্য তৈরি করতে হবে।

কারিগরি দক্ষতা (Hard Skills)

  • ডেটা অ্যানালাইসিস: পরিমাণগত (Quantitative) ডেটা বিশ্লেষণের জন্য পরিসংখ্যান সম্পর্কে ভালো ধারণা এবং SPSS, Stata, R-এর মতো সফটওয়্যারের জ্ঞান থাকা জরুরি। অন্ততপক্ষে অ্যাডভান্সড এক্সেলের কাজ জানতেই হবে।
  • গুণগত (Qualitative) ডেটা বিশ্লেষণ: ইন্টারভিউ বা ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন (FGD) থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে মূলভাব বের করার দক্ষতা।
  • M&E টুলস: KoboToolbox, ODK, SurveyCTO-এর মতো মোবাইল ডেটা কালেকশন টুলস ব্যবহারে পারদর্শিতা এখন প্রায় বাধ্যতামূলক।
  • ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন: Power BI বা Tableau-এর মতো টুলের মাধ্যমে জটিল ডেটাকে সহজ এবং আকর্ষণীয় গ্রাফ বা ড্যাশবোর্ডে উপস্থাপন করার ক্ষমতা।
  • গবেষণা পদ্ধতি: সার্ভে ডিজাইন, স্যাম্পলিং (নমুনায়ন) কৌশল এবং বিভিন্ন গবেষণা পদ্ধতি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা।

মানবিক দক্ষতা (Soft Skills)

  • বিশ্লেষণী চিন্তাভাবনা (Critical Thinking): তথ্যের গভীরে গিয়ে “কেন” প্রশ্ন করার ক্ষমতা এবং সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করার দক্ষতা।
  • যোগাযোগ ও গল্প বলা (Communication & Storytelling): জটিল ডেটা এবং বিশ্লেষণকে খুব সহজ ভাষায় প্রজেক্ট টিম, দাতা সংস্থা বা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার ক্ষমতা। শক্তিশালী রিপোর্ট রাইটিং দক্ষতা অপরিহার্য।
  • সততা ও কূটনীতি (Integrity & Diplomacy): মনিটরিং ম্যানেজারকে প্রায়শই প্রকল্পের ব্যর্থতা বা দুর্বলতা তুলে ধরতে হয়। চাপের মুখেও সত্যনিষ্ঠ থাকা এবং সেই অপ্রিয় সত্যটি গঠনমূলকভাবে উপস্থাপন করার মতো কূটনৈতিক দক্ষতা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
  • সহানুভূতি (Empathy): ডেটাকে শুধু সংখ্যা হিসেবে না দেখে এর পেছনের মানুষগুলোর পরিস্থিতি, তাদের সংগ্রাম এবং সাফল্যকে বোঝার ক্ষমতা।

মনিটরিং ম্যানেজারের ক্যারিয়ার পাথ: শুরু থেকে শীর্ষে

এনজিও-তে মনিটরিং ম্যানেজারের ক্যারিয়ার পাথ খুবই সম্ভাবনাময়, সম্মানজনক এবং তুলনামূলকভাবে দ্রুত উন্নতির সুযোগ রয়েছে। তবে সাধারণত কেউ সরাসরি ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন না। এর একটি সুনির্দিষ্ট আরোহণের পথ রয়েছে:

১. ধাপ: এন্ট্রি লেভেল (Entry Level)

  • পদ: ফিল্ড এনুমারেটর (Field Enumerator), ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, জুনিয়র ফিল্ড অফিসার।
  • কাজ: এই পর্যায়ে মূল কাজ হলো মাঠে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা, ডেটা এন্ট্রি করা এবং ডেটা পরিষ্কার করা। এটিই M&E-এর ভিত্তি এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সেরা সময়।

২. ধাপ: অফিসার লেভেল (Officer Level)

  • পদ: মনিটরিং অফিসার, M&E অফিসার, ডেটা ম্যানেজমেন্ট অফিসার।
  • কাজ: কয়েক বছরের (২-৪ বছর) অভিজ্ঞতার পর এই পদে আসা যায়। এখানে দায়িত্ব বেড়ে যায়। আপনি ছোট ছোট সার্ভে ডিজাইন করবেন, ডেটা সংগ্রহের টিমকে প্রশিক্ষণ দেবেন, প্রাথমিক ডেটা বিশ্লেষণ করবেন এবং ছোট রিপোর্ট লেখায় সিনিয়রকে সাহায্য করবেন।

৩. ধাপ: মিড-লেভেল/ম্যানেজার (Manager Level)

  • পদ: মনিটরিং ম্যানেজার, M&E ম্যানেজার, M&E কো-অর্ডিনেটর।
  • কাজ: এটিই আমাদের আলোচিত পদ। এখানে আপনি একটি বড় প্রকল্পের বা একাধিক ছোট প্রকল্পের পুরো M&E সিস্টেমের দায়িত্বে থাকেন। আপনি M&E অফিসারদের একটি টিম পরিচালনা করেন, দাতা সংস্থার সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখেন এবং কৌশলগত পরিকল্পনা করেন। এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সাধারণত ৫ থেকে ৮ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়।

৪. ধাপ: সিনিয়র/লিডারশিপ লেভেল (Leadership Level)

  • পদ: সিনিয়র M&E ম্যানেজার, হেড অফ M&E, MEAL অ্যাডভাইজর (Monitoring, Evaluation, Accountability and Learning), ডিরেক্টর অফ M&E।
  • কাজ: এই পর্যায়ে আপনি একটি পুরো প্রতিষ্ঠানের (বা একটি পুরো দেশের) M&E কৌশল নির্ধারণ করেন। আপনি একাধিক বড় বড় প্রোগ্রামের মনিটরিং তত্ত্বাবধান করেন, প্রতিষ্ঠানের নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখেন এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেতৃত্ব দেন।

বিকল্প পথ: M&E-তে গভীর অভিজ্ঞতা থাকার কারণে আপনার সামনে আরও দুটি চমৎকার পথ খোলা থাকে। এক, আপনি প্রোগ্রাম ম্যানেজার বা প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হতে পারেন, কারণ একটি প্রকল্প কীভাবে সফল করতে হয় সেই জ্ঞান আপনার সবচেয়ে ভালো থাকে। দুই, আপনি একজন উচ্চ বেতনের স্বাধীন পরামর্শক (Independent Consultant) হিসেবে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থাকে তাদের মূল্যায়ন কাজে সহায়তা করতে পারেন।

আপনি কি প্রস্তুত?

একজন মনিটরিং ম্যানেজারের পেশাটি তাদের জন্য, যারা শুধু একটি রুটিন চাকরি করতে চান না, বরং যারা পরিবর্তন আনতে চান এবং সেই পরিবর্তনকে পরিমাপ করতে চান। এটি এমন একটি ভূমিকা যেখানে আপনাকে একই সাথে ডেটা সায়েন্টিস্টের মতো বিশ্লেষণী, সাংবাদিকের মতো অনুসন্ধানী এবং একজন মানবিক গল্পকারের মতো সহানুভূতিশীল হতে হয়। আপনি যদি এমন একটি ক্যারিয়ার চান, যেখানে আপনার কাজ নিশ্চিত করবে যে প্রতিটি প্রচেষ্টা এবং প্রতিটি টাকা যেন মানুষের জীবনে সত্যিকারের এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, তবে এনজিও সেক্টরে মনিটরিং ম্যানেজারের এই চ্যালেঞ্জিং কিন্তু অসামান্য সন্তুষ্টির ভূমিকাটি আপনার জন্যই অপেক্ষা করছে।

আরও পড়ুনপড়ালেখায় গ্যাপ? জানুন কত বছর বিরতি দিয়েও অনার্স করা সম্ভব

Leave A Reply