এইচএসসি বোর্ড চ্যালেঞ্জ ২০২৫: আবেদন শেষ ২৩ অক্টোবর, জানুন ৯টি বাধ্যতামূলক নিয়ম
HSC Result Re-scrutiny 2025: Deadline, Fees & Dhaka Board Rules
HSC Result Re-scrutiny 2025: এইচএসসি ২০২৫ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই প্রকাশিত গ্রেড তাদের প্রত্যাশার সাথে মিলছে না। আপনিও যদি এমন পরিস্থিতিতে পড়েন, তবে ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণ বা ‘বোর্ড চ্যালেঞ্জ’ আপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এই বিষয়ে ৯টি বাধ্যতামূলক নিয়ম জারি করেছে, যা সরাসরি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক এবং এখানে ভুলের কোনো সুযোগ নেই। এই গাইডে আমরা ঢাকা বোর্ডের সেই ৯টি নিয়ম এবং আবেদন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে আলোচনা করবো।
প্রথমেই জানুন: আবেদন ও সময়সীমা
যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে, আপনাকে অবশ্যই অফিসিয়াল সময়সীমা জানতে হবে। এইচএসসি ২০২৫ ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন অবশ্যই ১৭ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এই সময়সীমা পার হয়ে গেলে আবেদনের আর কোনো সুযোগ থাকবে না।
সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি কঠোরভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। বিজ্ঞপ্তির ৯ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী, ম্যানুয়াল বা হাতে হাতে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
ধাপ ১: আবেদন প্রক্রিয়া ও মোবাইল নম্বর (নিয়ম ১ ও ২)
আবেদন শুরু করতে হবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত পুনঃনিরীক্ষণের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে। সেখানে আপনাকে প্রথমে আপনার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং শিক্ষা বোর্ড সঠিকভাবে নির্বাচন করে ‘Submit’ করতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো আপনার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর প্রদান করা। এটি ২ নম্বর নিয়মে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আপনাকে অবশ্যই একটি সচল এবং সঠিক মোবাইল নম্বর দিতে হবে। কারণ, আপনার পুনঃনিরীক্ষণের চূড়ান্ত ফলাফল এই মোবাইল নম্বরেই এসএমএস (SMS) এর মাধ্যমে পাঠানো হবে।
ধাপ ২: ফি এবং বিষয় নির্বাচন (নিয়ম ৩ ও ৪)
ওয়েবসাইটে প্রবেশের পর আপনি আপনার বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখতে পাবেন। সেখান থেকে আপনি যে বিষয় বা পত্রগুলো পুনঃনিরীক্ষণ করতে চান তা নির্বাচন করতে পারবেন (৩ নং নিয়ম)।
প্রতিটি পত্রের জন্য পুনঃনিরীক্ষণ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। তবে, এখানে একটি বিষয়ে প্রায়ই শিক্ষার্থীরা ভুল করেন, যা ৪ নম্বর নিয়মে স্পষ্ট করা হয়েছে।
যেসব বিষয়ে দুটি পত্র রয়েছে (যেমন: বাংলা প্রথম পত্র এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র), সেগুলোর ক্ষেত্রে আবেদন করলে অবশ্যই দুটি পত্রের জন্যই আবেদন করতে হবে। শুধু একটি পত্র নির্বাচন করে আবেদন করা যাবে না। এক্ষেত্রে, দুটি পত্রের জন্য মোট ফি হবে ৩০০ টাকা (১৫০ + ১৫০)।
ধাপ ৩: যেভাবে ফি পরিশোধ করবেন (নিয়ম ৫ ও ৬)
বিষয় নির্বাচন করার পর আপনাকে মোট ফি দেখানো হবে এবং পেমেন্ট করার জন্য বলা হবে। আপনি বিকাশ, নগদ, সোনালী সেবা, ডিবিবিএল রকেট এবং টেলিটক মোবাইল সিমের মাধ্যমে এই ফি পরিশোধ করতে পারবেন (৫ নং নিয়ম)।
পোর্টালে প্রতিটি পেমেন্ট পদ্ধতির জন্য আলাদা ‘হেল্প’ বাটন রয়েছে, যা আপনাকে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেবে। ফি সফলভাবে জমা দেওয়ার পর, আপনাকে অবশ্যই পোর্টালে ফিরে এসে ‘Submit’ বাটনে ক্লিক করতে হবে (৬ নং নিয়ম)। এটি না করলে আবেদন সম্পন্ন হবে না।
ধাপ ৪: আবেদন পরিবর্তন বা চূড়ান্তকরণ (নিয়ম ৭ ও ৮)
বোর্ড আবেদন পরিবর্তনের জন্য কিছুটা সুযোগ রেখেছে, তবে তা অবশ্যই পেমেন্ট করার আগে।
আপনি যদি ভুলবশত কোনো বিষয় নির্বাচন করে ফেলেন, তবে পেমেন্ট করার আগে ‘Delete’ বাটন চেপে তা বাদ দিতে পারবেন। তবে ৮ নম্বর নিয়মে পরিষ্কার বলা আছে, একবার ফি জমা দিয়ে আবেদন চূড়ান্ত করার পর তা আর কোনোভাবেই বাতিল বা পরিবর্তন করা যাবে না। জমা দেওয়া ফি কোনো অবস্থাতেই ফেরতযোগ্য নয়।
যদি আপনি পেমেন্ট করার পর বুঝতে পারেন যে কোনো বিষয় বাদ পড়েছে, সেক্ষেত্রে আপনি ৭ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নতুন বিষয়টি যুক্ত করতে পারবেন।
ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণ আপনার একাডেমিক রেকর্ড সঠিক করার একটি বৈধ উপায়। কোনো ধরনের দ্বিধা থাকলে ২৩ অক্টোবরের মধ্যেই ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম মেনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। মনে রাখবেন, এই অনলাইন প্রক্রিয়ায় আপনার দেওয়া তথ্যের নির্ভুলতাই একটি সফল বোর্ড চ্যালেঞ্জ আবেদনের চাবিকাঠি।
আরও পড়ুন: ক্যাডেট কলেজ ভর্তি ২০২৬: পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন (সিলেবাস, মানবন্টন ও প্রস্তুতি)