iPhone Air লঞ্চ হলো: অবিশ্বাস্য পাতলা, কিন্তু ক্যামেরা, ব্যাটারি ও স্পিকারে বিশাল ছাড়! ১০টি তথ্য জানুন

iPhone Air Launched: Apple's Thinnest iPhone Has Major Compromises (10 Facts)

0

iPhone Air: অবশেষে অ্যাপলের বহুল প্রতীক্ষিত ‘অ ড্রপিং’ (A Dropping) ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হলো। মঙ্গলবার রাতে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক আইফোন ১৭ সিরিজের চারটি নতুন মডেল উন্মোচন করেন: আইফোন ১৭, আইফোন ১৭ প্রো, আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স এবং আইফোন এয়ার (iPhone Air)।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল নিঃসন্দেহে iPhone Air। অ্যাপলের দাবি, এটি তাদের ইতিহাসে তৈরি সবচেয়ে পাতলা আইফোন। এই ঘোষণার পর থেকেই ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই অবিশ্বাস্য পাতলা ডিজাইন অর্জনের জন্য অ্যাপলকে বেশ কিছু বড়সড় আপস বা ‘ছাড়’ দিতে হয়েছে।

এই প্রতিবেদনে আমরা আইফোন এয়ার সম্পর্কে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিশ্লেষণ করব, যা আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে এই ফোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত কিনা।

iPhone Air Launched

iPhone Air হলো অ্যাপলের নতুন আইফোন মডেল, যা আইফোন ১৭ সিরিজের সাথে লঞ্চ হয়েছে। এটি মাত্র ৫.৬ মিলিমিটার পুরু, যা অ্যাপলের ইতিহাসে সবচেয়ে পাতলা আইফোন। এতে A19 প্রো চিপসেট থাকলেও ব্যবহারকারীকে ব্যাটারি, ক্যামেরা সিস্টেম, স্পিকার এবং চার্জিং স্পিডের ক্ষেত্রে প্রো মডেলের চেয়ে অনেক বড় ছাড় মেনে নিতে হবে।

১. ডিজাইন ও স্থায়িত্ব: ইঞ্জিনিয়ারিং-এর বিস্ময়?

আইফোন এয়ার-এর প্রধান সেলিং পয়েন্ট হলো এর নকশা। ফোনটির পুরুত্ব মাত্র ৫.৬ মিলিমিটার এবং ওজন মাত্র ১৬৫ গ্রাম। এটি আইফোন ৬ (যা ৬.৯ মিমি পুরু ছিল) মডেলের পর অ্যাপলের সবচেয়ে পাতলা আইফোন।

তবে এত পাতলা ফোন হাতে এলে প্রথমেই যে প্রশ্নটি মাথায় আসে, তা হলো এর স্থায়িত্ব। এর আগে আইফোন ৬ মডেলের বিরুদ্ধে সহজেই বাঁকা হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। অ্যাপল জানিয়েছে, এবার সেই ঝুঁকি এড়াতে টাইটানিয়াম ফ্রেম এবং উন্নত সিরামিক শিল্ড ব্যবহার করা হয়েছে। তাই আপাতদৃষ্টিতে, iPhone Air যথেষ্ট মজবুত করেই তৈরি করা হয়েছে।

২. পারফরম্যান্স: প্রো চিপসেট, কিন্তু একটি শর্তে

অ্যাপল আইফোন এয়ার-এ আইফোন ১৭ প্রো মডেলে ব্যবহৃত শক্তিশালী A19 প্রো প্রসেসরই ব্যবহার করেছে। কিন্তু এখানেও একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। প্রো মডেলে যেখানে ৬-কোর জিপিইউ (GPU) রয়েছে, সেখানে iPhone Air-এ রয়েছে ৫-কোর জিপিইউ।

সম্ভবত পাতলা চেসিসের কারণে হিট ম্যানেজমেন্ট বা তাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য অ্যাপল একটি জিপিইউ কোর নিষ্ক্রিয় রেখেছে। অবশ্য, দৈনন্দিন ব্যবহারে বা সাধারণ গেমিংয়ে এই পার্থক্যের প্রভাব তেমন বোঝা যাবে না।

৩. ক্যামেরা সিস্টেম: সবচেয়ে বড় আপস

পাতলা ডিজাইন ধরে রাখার জন্য অ্যাপলকে হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রেও বড় ছাড় দিতে হয়েছে। ফোনটির মূল হার্ডওয়্যার, বিশেষ করে ক্যামেরা মডিউল, ওপরের দিকে রাখা হয়েছে, যাকে অ্যাপল ‘প্লেটো’ (Plato) ডিজাইন বলছে।

এই সংকীর্ণ জায়গায় একাধিক ক্যামেরা লেন্স যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে, iPhone Air-এ মাত্র একটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরা রয়েছে। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীরা এই ফোনে কোনো আল্ট্রা-ওয়াইড বা টেলিফটো লেন্স পাবেন না, যা এই দামের ফোনে একটি অভাবনীয় বিষয়।

তবে, সেলফি ক্যামেরা আপগ্রেড করা হয়েছে। এতে একটি ১৮ মেগাপিক্সেলের ‘স্কয়ার’ ফ্রন্ট ক্যামেরা রয়েছে, যাতে ‘সেন্টার স্টেজ’ সুবিধা আছে। এর ফলে ফোন আড়াআড়ি না ঘুরিয়েই ল্যান্ডস্কাপ মোডে সেলফি তোলা যাবে।

৪. ব্যাটারি এবং চার্জিং: যা প্রো-লেভেলের নয়

একটি ফোনকে পাতলা করার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যাটারি। iPhone Air-এ অ্যাপলকে সেই আপসটি করতে হয়েছে। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, এই ফোনে টানা ২৭ ঘণ্টা ভিডিও চালানো যাবে। অন্যদিকে, আইফোন ১৭ সিরিজের অন্য মডেলগুলো (যেমন প্রো) ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও প্লেব্যাক সাপোর্ট করে।

শুধু তাই নয়, চার্জিং স্পিডেও এটি পিছিয়ে। আইফোন ১৭ প্রো মডেলগুলো যেখানে নতুন ৪০ ওয়াট চার্জারে মাত্র ২০ মিনিটে ৫০% চার্জ হয়, সেখানে iPhone Air-এ একই চার্জ হতে সময় লাগে ৩০ মিনিট এবং এটি সর্বোচ্চ ২০ ওয়াট চার্জিং সমর্থন করে।

৫. অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ছাড়: যা আপনাকে জানতেই হবে

শুধু ক্যামেরা বা ব্যাটারি নয়, আরও বেশ কিছু মৌলিক ফিচারে ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা অনেক ব্যবহারকারীকে হতাশ করতে পারে।

  • স্টেরিও স্পিকার নেই: দামি স্মার্টফোনে স্টেরিও স্পিকার এখন একটি সাধারণ বিষয়। কিন্তু iPhone Air-এ খরচ এবং জায়গা বাঁচাতে মাত্র একটি স্পিকার রাখা হয়েছে। গান শোনার সময় বা মুভি দেখার সময় স্টেরিও সাউন্ডের অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে না।
  • ** শুধুই ই-সিম:** iPhone Air হলো অ্যাপলের প্রথম আইফোন, যা বিশ্বব্যাপী কোনো ফিজিক্যাল সিম স্লট ছাড়াই বাজারে আসছে। অর্থাৎ, আপনাকে বাধ্যতামূলকভাবে ই-সিম (e-SIM) ব্যবহার করতে হবে, যা অনেক দেশে বা ব্যবহারকারীর জন্য এখনও কিছুটা ঝামেলাপূর্ণ হতে পারে।
  • ধীরগতির ডেটা ট্রান্সফার: সবচেয়ে বড় ছাড়টি হলো এর ইউএসবি-সি পোর্টে। iPhone Air-এ ইউএসবি ২.০ স্পিড (USB 2) দেওয়া হয়েছে। এর তুলনায় প্রো মডেলগুলো ইউএসবি ৩ (প্রতি সেকেন্ডে ১০ গিগাবাইট) সমর্থন করে। ফলে ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় তোলা বড় ফাইল কম্পিউটারে ট্রান্সফার করতে হতাশাজনকভাবে ধীর গতির সম্মুখীন হতে হবে।

৬. আপগ্রেড: নতুন ৫জি মডেম

একটি বড় আপগ্রেড হলো এর মডেম। iPhone Air-এ অ্যাপলের নিজস্ব নতুন প্রজন্মের C1X ৫জি মডেম ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যাপলের দাবি, এটি আগের C1 মডেমের চেয়ে দ্বিগুণ দ্রুত এবং কোয়ালকমের মডেমের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম শক্তি (পাওয়ার) খরচ করে, যা ব্যাটারি লাইফে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে।

৭. iPhone Air কি আপনার কেনা উচিত?

iPhone Air অ্যাপলের ইঞ্জিনিয়ারিং-এর একটি দুর্দান্ত নিদর্শন, কিন্তু এটি সবার জন্য নয়। এই ফোনটি তাদের জন্য, যারা ডিজাইন এবং স্টাইলকে পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। আপনার যদি একটি অবিশ্বাস্যরকম পাতলা এবং হালকা ফোন দরকার হয় এবং মাল্টি-ক্যামেরা সিস্টেম বা দীর্ঘতম ব্যাটারি লাইফ আপনার প্রধান প্রয়োজন না হয়, তবে এটি আপনার জন্য।

তবে, আপনি যদি একজন ‘পাওয়ার ইউজার’ হন এবং আপনার সেরা ব্যাটারি লাইফ প্রয়োজন, তবে এই ফোনটি এড়িয়ে চলুন। ফটোগ্রাফি যদি আপনার প্রধান কাজ হয় (বিশেষ করে জুম বা আল্ট্রা-ওয়াইড শট) অথবা আপনি যদি স্টেরিও স্পিকারে মিডিয়া উপভোগ করতে চান, তবে এটি আপনার জন্য নয়।

সব মিলিয়ে, iPhone Air একটি ‘স্ট্যাটাস সিম্বল’ বা ফ্যাশন স্টেটমেন্ট ডিভাইস হিসেবে চমৎকার, তবে দৈনন্দিন ব্যবহারের ‘অল-রাউন্ডার’ হিসেবে আইফোন ১৭ বা ১৭ প্রো সম্ভবত অনেক বেশি কার্যকরী বিকল্প।

আরও পড়ুনWalton Walpad 11G: ১০.৯৫ ইঞ্চি ৯০Hz ডিসপ্লে ও Helio G99 নিয়ে নতুন ট্যাবলেট বাজারে

Leave A Reply