পড়ালেখায় গ্যাপ? জানুন কত বছর বিরতি দিয়েও অনার্স করা সম্ভব
কত বছর গ্যাপ দিয়ে অনার্স করা যাবে? | স্টাডি গ্যাপ ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি
কত বছর গ্যাপ দিয়ে অনার্স করা যাবে: উচ্চ মাধ্যমিক (HSC) পাশের পর জীবনের বাঁকে অনেক সময়ই অনাকাঙ্ক্ষিত বিরতি চলে আসে। পারিবারিক, আর্থিক, শারীরিক অসুস্থতা বা ভালো প্রস্তুতির আশায় কেটে যেতে পারে একটি বা দুটি বছর। এই সময়টাতেই শিক্ষার্থীদের মনে সবচেয়ে বড় যে দুশ্চিন্তাটি ভর করে তা হলো— “আমার তো স্টাডি গ্যাপ হয়ে গেলো, আমি কি আর অনার্স করতে পারবো?” এই একটি প্রশ্ন অনেকের স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তৈরি করে প্রচণ্ড মানসিক চাপ।
কত বছর গ্যাপ দিয়ে অনার্স করা যাবে?
বাস্তবতা হলো, “কত বছর গ্যাপ দিয়ে অনার্স করা যাবে“— এই প্রশ্নের কোনো একক বা বাঁধাধরা উত্তর নেই। এর উত্তর সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনি কোন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে ইচ্ছুক, তার ওপর। প্রতিটি ক্যাটাগরির (পাবলিক, জাতীয়, প্রাইভেট) বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিয়ম ও শর্ত রয়েছে। তাই হতাশ না হয়ে, আসুন পুরো বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জেনে নিই।
প্রথমেই আসি পাবলিক বা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রসঙ্গে। বাংলাদেশের প্রথম সারির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো (যেমন: ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি) সাধারণত স্টাডি গ্যাপের ব্যাপারে সবচেয়ে কঠোর। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, তারা চলতি বছরের এবং তার ঠিক পূর্ববর্তী বছরের এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দেয়। অর্থাৎ, আপনি যে বছর ভর্তি পরীক্ষা দেবেন, সে বছর বা তার আগের বছর এইচএসসি পাশ করে থাকলেই কেবল আবেদন করতে পারবেন। একে সাধারণত “সেকেন্ড টাইম” ভর্তির সুযোগ বলা হয়। যদি আপনার পড়ালেখায় বিরতি দুই বছরের বেশি হয়ে যায়, তবে দেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনার্সে ভর্তি হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ না পেলেই যে সব পথ বন্ধ হয়ে গেলো, তা কিন্তু নয়। এখানেই আসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (National University) কথা। স্টাডি গ্যাপ থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি বিশাল সুযোগ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণত এইচএসসি পাশের পর দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত ভর্তির আবেদন গ্রহণ করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়, তবে তারা সাধারণত ২০২২, ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আবেদন করার সুযোগ দেয়। প্রতি বছর ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। তাই যাদের গ্যাপ পড়েছে, তাদের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কলেজে অনার্সে ভর্তি হওয়া একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে।
সবশেষে আলোচনা করা যাক প্রাইভেট বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে। স্টাডি গ্যাপের ক্ষেত্রে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবচেয়ে বেশি উদার এবং নমনীয়। ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন (UGC) কর্তৃক নির্ধারিত ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা (জিপিএ) থাকলে, আপনার এইচএসসি পাশের পর ৫, ৭ বা এমনকি ১০ বছরের গ্যাপ থাকলেও অধিকাংশ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে সানন্দে গ্রহণ করবে। তারা মূলত আপনার বর্তমান যোগ্যতা এবং কোর্স শেষ করার সদিচ্ছাকেই প্রাধান্য দেয়। বিশেষ করে যারা চাকরি বা অন্য কোনো পেশার পাশাপাশি পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চান, তাদের জন্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় একটি আদর্শ জায়গা।
সুতরাং, এটা পরিষ্কার যে পড়ালেখায় এক-দুই বছরের বিরতি মানেই আপনার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়া নয়। আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক প্রতিষ্ঠানটি বেছে নেওয়াই এখানে মূল চ্যালেঞ্জ। যদি আপনার লক্ষ্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হয়, তবে সময় নষ্ট না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর যদি গ্যাপ পড়েই যায়, তবে জাতীয় বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল দরজা আপনার জন্য খোলা রয়েছে। মূল কথা হলো, হতাশাকে প্রশ্রয় না দিয়ে, আপনার জন্য কোন পথটি সেরা তা খুঁজে বের করা এবং পুনরায় পূর্ণ উদ্যমে পড়ালেখার জগতে ফিরে আসা।
আরও পড়ুন: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০,২১৯ সহকারী শিক্ষক নিয়োগ: প্রথম ধাপে ৬ বিভাগে আবেদন শুরু